হাওজা নিউজ এজেন্সি: তিনি বলেন, নারী ও পুরুষ—উভয় হাওজার শিক্ষা কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দ্বীনের গভীর অনুধাবন (তাফাক্কুহ ফিদ্দীন) অর্জন। আর তাফাক্কুহ বলতে শুধু প্রাথমিক বা সাধারণ জ্ঞান অর্জনকে বোঝায় না; বরং এমন গভীর উপলব্ধিকে বোঝায়, যা কোনো বিষয়ের অন্তর্নিহিত ও সূক্ষ্ম স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।
দাওয়াত ও সতর্কবাণীর পূর্বশর্ত তাফাক্কুহ
আয়াতুল্লাহ শাব জিন্দাদার বলেন, নারী হাওজায়ে ইলমিয়াগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো—সেখানে ছাত্রীদের নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও জ্ঞানগত বিকাশ সাধিত হয়। এর ফলে তাঁদের স্নেহ ও শিক্ষায় বেড়ে ওঠা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আদর্শবান, ঈমানদার এবং সত্যের পথে আত্মোৎসর্গে প্রস্তুত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইসলামী ফিকহচর্চায় ফিকহে জাওয়াহেরি (শিয়া ফিকহের প্রাচীন ও প্রামাণ্য পদ্ধতি) থেকে বিচ্যুত হওয়ার কিছু প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অথচ ইমাম খোমেনী (রহ.) এবং পূর্বসূরি মহান ফকিহগণ এই পদ্ধতি অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি বলেন, যারা শরিয়তের বিধান নির্ণয়ে স্বতন্ত্র উৎস হিসেবে বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিকে প্রাধান্য দেন অথবা মাকাসিদুশ শরিয়াহ (শরিয়তের উদ্দেশ্য)-এর ভিত্তিতে বিধান নির্ধারণের পক্ষে মত দেন, তাঁদের উচিত শরিয়তের বিধান প্রণয়ন সম্পর্কে ইমাম খোমেনী (রহ.) এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ফকিহদের বক্তব্য গভীরভাবে অধ্যয়ন করা।

হাওজায়ে ইলমিয়ার প্রধান দায়িত্ব মানবগঠন
আয়াতুল্লাহ শাব জিন্দাদার বলেন, নারী ও পুরুষ—উভয় হাওজায়ে ইলমিয়া যদি আল্লাহভীরু, মুত্তাকি ও আদর্শ মানুষ গড়ে তুলতে চায়, তবে এর অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—হাওজার দায়িত্বশীল ব্যক্তি, পরিচালক ও শিক্ষকদের জীবনাচরণে আল্লাহভীতি, তাকওয়া এবং সত্যের পথে অবিচলতার বাস্তব প্রতিফলন থাকতে হবে। কারণ একজন শিক্ষকের চরিত্র ও আদর্শই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব গঠনে সবচেয়ে গভীর প্রভাব ফেলে।
বৈঠকের শুরুতে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আলীজাদে নারী হাওজাগুলোর বর্তমান অবস্থা, শিক্ষা কার্যক্রম, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
আপনার কমেন্ট